প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন যারা
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন ও কৃষিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আসতে পারে নতুন মুখ।
একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে ধাপে ধাপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যাও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটি কোনো বিচিত্র ব্যাপার নয়, বরং অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসাটাই নিয়ম। তবে তার মানে এই নয় যে, এটি এখনই হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো সময়েই হতে হবে।
এগুলো নিয়ে কথা বলার একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, তখনই কাউকে নতুন দায়িত্ব দিতে পারেন কিংবা কারও দায়িত্ব পরিবর্তন করতে পারেন।’ রাজনৈতিক সূত্র বলছে, সম্ভাব্য এই রদবদলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীতে যুক্ত হতে পারেন।
আলোচনার কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলমান আলোচনায় সবচেয়ে বড় ফোকাস শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘিরে। দুর্যোগকালীন পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে নেওয়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিব্রত বলে জানা গেছে।
এ কারণে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে। তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সংস্কার আরও গতিশীল করতেই এমন চিন্তাভাবনা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও রদবদলের হাওয়া লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সেমিনার ও সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ‘অতিকথনে’ প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো ক্ষুব্ধ।
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের লোকজন লাইসেন্স বাঁচাতে কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে। পরে ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্ত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ওই বক্তব্যের প্রমাণ তুলে ধরার দাবি জানান।
এ ছাড়া কয়েকদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে তাকে মূল বিষয়ের বাইরে কথা বলতে নিষেধ করেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। রদবদলের পর মন্ত্রিসভায় নতুন করে কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ান, পোড় খাওয়া রাজনীতিক এবং দুই-একজন তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে।
কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত এটি কাটিয়ে উঠতে চায় সরকার। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে একজন প্রবীণ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছয়বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন যারা মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বেশকিছু নাম শোনা যাচ্ছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ ও মো. মজিবুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেল। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে জোটের শরিক দলগুলো থেকেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। এর মধ্যে রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। বিভিন্ন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা কয়েকজনকেও দেখা যেতে পারে নতুন মন্ত্রিসভায়।
তবে চূড়ান্ত তালিকায় কারা থাকছেন, তা জানতে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সুত্র-এশিয়া পোস্ট
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com