প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আ.লীগ নেতাদের নিষিদ্ধের প্রস্তাবে অবস্থান স্পষ্ট করল ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব গ্রহণ করছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দ্বৈত নাগরিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। সভায় সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইন ও বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তবে আচরণবিধি সংশোধন ইসির নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এ বিষয়ে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেয় জামায়াতে ইসলামী।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের শুধু দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। আইন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়াও একই সভায় অনুমোদন পেতে পারে। চার শ্রেণির ব্যক্তির প্রার্থিতায় বিধিনিষেধের প্রস্তাব ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা
খালাস পেলে এ অযোগ্যতা আর বহাল থাকবে না। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে এমন বিধান যুক্ত করার সুপারিশও করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল বর্তমানের দুই সদস্যের পরিবর্তে উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইসির মতে, এতে আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও আইনি জটিলতা কমবে। সংশোধনী প্রস্তাবে আরও রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া, জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিধান যুক্ত করা।
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com