প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা
নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই তিন নেতার মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, বাস্তবে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলই গ্রহণ করে। বিএনপির ক্ষেত্রে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাকে মনোনয়ন দেবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কুমিল্লা-১ আসন থেকে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সময় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা অতীতেও একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নানা রাজনৈতিক সংকট, কারাবরণ এবং দলীয় টানাপোড়েনের সময়েও তিনি বিএনপির সঙ্গেই ছিলেন। এর আগেও বিএনপি সরকার গঠন করলে খন্দকার মোশাররফ রাষ্ট্রপতি হতে পারেন—এমন আলোচনা হয়েছিল।
২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির এক বিভাগীয় সমাবেশে দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে এমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে কিছুটা আড়ালে রেখেছেন, যাতে তাকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিজের শেষ নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা এই নেতা নানা রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও কারাবরণের মধ্যেও দলীয় অবস্থান থেকে সরে যাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য শক্তিশালী সম্ভাব্য নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে তিনি নিজে এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।Legal Jobs রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই নেতাকে দক্ষ বক্তা ও গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নথি প্রণয়নে পারদর্শী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি না হলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অথবা জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com