প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেওয়ার পরে কী হবে?
আগামী শনিবার বা রোববার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন মো. সাহাবুদ্দিন। এখন বড় প্রশ্ন হলো, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর কী হবে? ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিনেরও পদত্যাগের দাবি ওঠে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর।
তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে পরবর্তী ৫ বছর এ দায়িত্বে থাকতে পারেন। সে হিসেবে এখনো মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ আছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ মেয়াদে এ দায়িত্বে থাকতে পারেন। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ বলছে, পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন, জানা গেল সময়রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন, জানা গেল সময় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইমিডিয়েটলি কার্যকর হয়। এটা দুই লাইনের চিঠি হয় সাধারণত।
সাধারণত ব্যক্তিগত কারণই উল্লেখ করেন সকলে। এসব পদে পদত্যাগপত্র হ্যান্ডওভার করলেই কার্যকর হয়ে যায় সাধারণত। মানে পদত্যাগপত্রটা স্পিকারের কাছে পৌঁছে দিলেই স্পিকার পাওয়ার সময় থেকেই কার্যকর হবে, মানে এখানে গ্রহণ করার, না গ্রহণ করার কোনো স্কোপ নেই। পদত্যাগপত্র লিখলেই এটা গ্রহণীয়।’ এই সংবিধান বিশেষজ্ঞের মতে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদ শূন্য থাকবে না। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে বলা হয়েছে, "রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।" রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করা বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যবর্তী যে সময়, ওই সময়ে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান তুলে ধরে শাহদীন মালিক জানান, এই অনুচ্ছেদটিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ওই পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষের তারিখের আগে ৯০ অথবা সর্বনিম্ন ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি শর্তও রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছে, সেই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে যদি রাষ্ট্রপতির পদ খালি হয়, তাহলে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যাবে না।
একই সঙ্গে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণ হলে নির্বাচনের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর ৯০ দিনের মধ্যে সেটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com