প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান
ইরান ও ইসরায়েল এর মধ্যে চলা ৪০ দিনের সামরিক সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের অংশ, যেখানে দুই পক্ষই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়। এই হামলায় ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে মোট ২৪ জন নিহত হন, যাদের সবাই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না।
আহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ৫,৫০০-এর বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তত ১৬টি সাধারণ ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের কারণে শত শত পৃথক বিস্ফোরণ ঘটে বিভিন্ন এলাকায়।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানে ১০,৮০০টিরও বেশি পৃথক হামলা চালায়, যা ৪,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র।
এছাড়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনী প্রায় ৮,৫০০টি যুদ্ধবিমান মিশন পরিচালনা করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একাই ১৩,০০০টি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার ক্ষতি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে যায়। প্রায় ২০০টি লঞ্চার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয় এবং আরও ৮০টি টানেল লক্ষ্য করে অকার্যকর করা হয়। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থার প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অস্ত্র উৎপাদন শিল্পে বড় ধরনের ধ্বংস সাধিত হয়েছে, যার ফলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। পারমাণবিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধ চলাকালে ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর, ইয়াজদে ইউরেনিয়াম প্রসেসিং প্ল্যান্ট এবং তেহরানের গবেষণা কেন্দ্র।
পরবর্তীতে অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করা হয়। এতে গ্যাস অবকাঠামো, বড় বড় স্টিল কারখানা, পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট এবং রেল ও সেতু ধ্বংস করা হয়, যা ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় ক্ষতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও ৪০ জন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হন। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও আরও বহু জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, নৌবাহিনী প্রধান আলিরেজা তাংসিরি, গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি এবং অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।
ইসরায়েল দাবি করেছে, মোট প্রায় ৫,০০০ ইরানি সেনা নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার আহত হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে মূল অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, যা একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ৪০ দিনের সংঘাতকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক অবকাঠামো, অর্থনীতি, মানবিক ক্ষতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এই যুদ্ধ গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com