ঢাকা    শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক প্রিয় টাইমস

গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা, নোংরামি বা অশ্লীলতার লাইসেন্স নয়।



গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা, নোংরামি বা অশ্লীলতার লাইসেন্স নয়।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো বাক-স্বাধীনতা। কিন্তু যখন এই স্বাধীনতার আড়ালে নোংরামি, অশ্লীলতা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ জায়গা করে নেয়, তখন সেটি আর স্বাধীনতা থাকে না—বরং সেটি সমাজের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়। প্রখ্যাত দার্শনিক John Stuart Mill তাঁর On Liberty গ্রন্থে বলেছিলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটি অন্যের ক্ষতি বা অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে না। অর্থাৎ স্বাধীনতা মানেই সীমাহীন আচরণের অনুমতি নয়। একইভাবে Alexis de Tocqueville তাঁর Democracy in America গ্রন্থে সতর্ক করেছিলেন—গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বা জনমতের শক্তি যদি দায়িত্বহীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেটি সহজেই অরাজকতা ও নৈতিক অবক্ষয়ে পরিণত হতে পারে। আজকাল একটি বিপজ্জনক প্রবণতা স্পষ্ট: “বাক-স্বাধীনতা” শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অশ্লীল গালিগালাজ, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহননকে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। কেউ ভিন্নমত দিলেই তাকে যুক্তি দিয়ে উত্তর না দিয়ে অপমান করা—এটি কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।

 

 সমাজবিজ্ঞানী Jürgen Habermas “public sphere” ধারণায় বলেছেন, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন যুক্তিনির্ভর, শালীন ও সম্মানজনক আলোচনা। যেখানে ভাষা নোংরা হয়ে যায়, সেখানে গণতান্ত্রিক আলোচনা ধ্বংস হয়ে যায়। আরও উদ্বেগজনক হলো প্রযুক্তির অপব্যবহার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ভুয়া অশ্লীল ছবি বা ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া এখন বাস্তবতা। Hannah Arendt সতর্ক করেছিলেন—যখন সত্যকে বিকৃত করা হয় এবং মিথ্যাকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়, তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তিই ভেঙে পড়ে। গণতান্ত্রিক সমালোচনা কখনোই অশ্লীল হয় না। এটি তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং নীতিনির্ভর হয়। কিন্তু যখন সেই জায়গা দখল করে নেয় গালিগালাজ ও কুৎসা, তখন সেটি আর গণতন্ত্রের অংশ থাকে না—বরং সেটি হয়ে যায় সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, এই প্রবণতা এখন ধীরে ধীরে সমাজের সব স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।

 শিক্ষিত মানুষদের মধ্যেও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে অপমান, ভুয়া কনটেন্ট ও কুরুচিপূর্ণ আক্রমণই স্বাভাবিক আচরণ হয়ে দাঁড়াবে। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—বাক-স্বাধীনতা মানে নোংরামি করার লাইসেন্স নয়। শেষ কথা হলো, স্বাধীনতা তখনই মূল্যবান যখন সেটি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। অন্যথায়, সেই স্বাধীনতাই একসময় সমাজের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়।

লেখক সাংবাদিক মোঃ মিরাজুল ইসলাম

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রিয় টাইমস

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা, নোংরামি বা অশ্লীলতার লাইসেন্স নয়।

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো বাক-স্বাধীনতা। কিন্তু যখন এই স্বাধীনতার আড়ালে নোংরামি, অশ্লীলতা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ জায়গা করে নেয়, তখন সেটি আর স্বাধীনতা থাকে না—বরং সেটি সমাজের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়। প্রখ্যাত দার্শনিক John Stuart Mill তাঁর On Liberty গ্রন্থে বলেছিলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটি অন্যের ক্ষতি বা অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে না। অর্থাৎ স্বাধীনতা মানেই সীমাহীন আচরণের অনুমতি নয়। একইভাবে Alexis de Tocqueville তাঁর Democracy in America গ্রন্থে সতর্ক করেছিলেন—গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বা জনমতের শক্তি যদি দায়িত্বহীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেটি সহজেই অরাজকতা ও নৈতিক অবক্ষয়ে পরিণত হতে পারে। আজকাল একটি বিপজ্জনক প্রবণতা স্পষ্ট: “বাক-স্বাধীনতা” শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অশ্লীল গালিগালাজ, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহননকে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। কেউ ভিন্নমত দিলেই তাকে যুক্তি দিয়ে উত্তর না দিয়ে অপমান করা—এটি কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।

 

 সমাজবিজ্ঞানী Jürgen Habermas “public sphere” ধারণায় বলেছেন, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন যুক্তিনির্ভর, শালীন ও সম্মানজনক আলোচনা। যেখানে ভাষা নোংরা হয়ে যায়, সেখানে গণতান্ত্রিক আলোচনা ধ্বংস হয়ে যায়। আরও উদ্বেগজনক হলো প্রযুক্তির অপব্যবহার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ভুয়া অশ্লীল ছবি বা ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া এখন বাস্তবতা। Hannah Arendt সতর্ক করেছিলেন—যখন সত্যকে বিকৃত করা হয় এবং মিথ্যাকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়, তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তিই ভেঙে পড়ে। গণতান্ত্রিক সমালোচনা কখনোই অশ্লীল হয় না। এটি তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং নীতিনির্ভর হয়। কিন্তু যখন সেই জায়গা দখল করে নেয় গালিগালাজ ও কুৎসা, তখন সেটি আর গণতন্ত্রের অংশ থাকে না—বরং সেটি হয়ে যায় সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, এই প্রবণতা এখন ধীরে ধীরে সমাজের সব স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।

 শিক্ষিত মানুষদের মধ্যেও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে অপমান, ভুয়া কনটেন্ট ও কুরুচিপূর্ণ আক্রমণই স্বাভাবিক আচরণ হয়ে দাঁড়াবে। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—বাক-স্বাধীনতা মানে নোংরামি করার লাইসেন্স নয়। শেষ কথা হলো, স্বাধীনতা তখনই মূল্যবান যখন সেটি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। অন্যথায়, সেই স্বাধীনতাই একসময় সমাজের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়।

লেখক সাংবাদিক মোঃ মিরাজুল ইসলাম


দৈনিক প্রিয় টাইমস

সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক
নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ
বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার
প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com