দৈনিক প্রিয় টাইমস

স্বাস্থ্য

ফ্যাটি লিভারের আসল কারণ কি? চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

ওজন কমানো, পেশি গঠন কিংবা ফিট থাকার লক্ষ্য সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন যেন একটি শব্দ, ‘প্রোটিন’। জিম সংস্কৃতি, কিটো ডায়েট ও লো-কার্ব খাদ্যাভ্যাসের জনপ্রিয়তায় অনেকেই প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন। তবে এই প্রবণতা কি উল্টো লিভারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে?  বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবসে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোটিন শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস বা স্থূলতার সমস্যা রয়েছে। ফ্যাটি লিভার কেন বাড়ছে এটা কি রোগের ইঙ্গিত বর্তমানে ‘স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ নামে পরিচিত ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এই সমস্যায় ভুগছেন। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এর প্রধান কারণ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখন শিশুদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং দ্রুত ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ অনুসরণ করার প্রবণতাও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে উচ্চ-প্রোটিন ডায়েট ওজন কমানো এবং দ্রুত পেশি গঠনের আশায় অনেকেই এখন হাই প্রোটিন, মুরগির মাংস, ডিম ও বিভিন্ন প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।  কিন্তু শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে তা সবসময় উপকার বয়ে আনে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষই জানেন না তাদের শরীরের আসলে কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন। ফলে অজান্তেই তারা অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করছেন।  ৯ জুন ২০২৬ অতিরিক্ত গরমে কি পেশিতে ব্যথা হয়, রোগের ইঙ্গিত নয় তো? অনেকেই এখন হাই প্রোটিন, মুরগির মাংস, ডিম ও বিভিন্ন প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ছবি: সংগৃহীত অনেকেই এখন হাই প্রোটিন, মুরগির মাংস, ডিম ও বিভিন্ন প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।  অতিরিক্ত প্রোটিন কি লিভারের ক্ষতি করতে পারে সুস্থ লিভার সাধারণত প্রোটিন প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। তবে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে অতিরিক্ত প্রোটিন বিপাকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে শরীরে নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস বা স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এছাড়া অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণও লিভারের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল সমস্যা শুধু প্রোটিন নয়; বরং উচ্চ-প্রোটিন, কম-আঁশ এবং বেশি চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। লিভারের সমস্যার যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। যেমন— সবসময় ক্লান্ত লাগা পেট ফোলা বা অতিরিক্ত মেদ জমা হজমের সমস্যা বা বমি বমি ভাব লিভার এনজাইমের মাত্রা বেড়ে যাওয়া প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া গুরুতর ক্ষেত্রে হালকা জন্ডিস হজমের সমস্যা বা বমি বমি ভাব ফ্যাটি লিভারের অন্যত্ম লক্ষণ। হজমের সমস্যা বা বমি বমি ভাব ফ্যাটি লিভারের অন্যত্ম লক্ষণ।  প্রতিদিন কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (আইসিএমআর) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ০.৮ থেকে ১ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। অন্যদিকে যারা নিয়মিত উচ্চমাত্রার শারীরিক ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরিমাণ ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।  যেসব খাদ্যাভ্যাস ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায় উচ্চ-প্রোটিন কিন্তু কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রোটিনজাত খাবার সম্পূর্ণভাবে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া প্রোটিনের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি বা সফট ড্রিংকস গ্রহণ গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়া লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন প্রোটিনের সঙ্গে পর্যাপ্ত আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন নিয়মিত ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাত খাবার খান ডাল, শিম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত পানি পান করুন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোহান বাদাভ বলেন,প্রোটিন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বেশি খেলেই যে বেশি উপকার হবে এ ধারণা সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার সুস্থ রাখতে কোনো একটি পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন প্রয়োজন, তবে পরিমিত মাত্রায়।

ফ্যাটি লিভারের আসল কারণ কি?  চিকিৎসকের সতর্কবার্তা