বিশ্বকাপ হোক বা প্রিমিয়ার লিগ কিংবা ফুটবলের অন্য কোনো প্রতিযোগিতা, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে; যার মধ্যে একটি ম্যাচে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। একটি ছিল আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড।
অন্যটি স্পেনের নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হওয়া গোল। পরে স্পেন ১-০ গোলে জয় পাওয়া নিকোর গোল নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তবে এনজোর লাল কার্ড নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ইএসপিএনের এক পোস্টে উঠে এসেছে, দুটি সিদ্ধান্ত কোনো বিতর্ক নেই। ভিএআর সিদ্ধান্ত জানাতে সঠিক মূল্যায়ন করেছে। এনজোর লাল কার্ড নিয়েই শুরুতে আলোচনা করা যাক। ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর কয়েক মুহূর্ত আগে তিনি রেফারির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য প্রথম হলুদ কার্ড পান। এরপর স্পেনের পাও কুবার্সির ওপর দেরিতে ও বেপরোয়া ট্যাকল করলে রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাও এখন ভিএআর পর্যালোচনা করতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে ভিএআর দ্রুতই রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, এনজো বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ঝুঁকিতে ফেলে বেপরোয়া ট্যাকল করেন। তাই তার লাল কার্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। মেট লাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান স্লোভেনিয়ান স্লাভকো ভিনচিচ। আর্জেন্টিনার জন্য ভিনচিচ অনেকটাই ‘অপয়া।
’ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের ২-১ গোলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন তিনিই। সেই হারের পর আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল পযন্ত সবগুলো ম্যাচ জিতেছে। ভিনচিচের হাতে বাঁশি পড়তেই আর্জেন্টিনার কপাল পুড়ে যায়। এনজোর বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে। একই সঙ্গে ২০১০ সালের পর এই প্রথম কোনো ফুটবলার বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া
৬ ফুটবলার পেদ্রো মোনসোন-আর্জেন্টিনা (১৯৯০)। গুস্তাভো দেসোত্তি-আর্জেন্টিনা (১৯৯০)। মার্সেল দেসাইলি-ফ্রান্স (১৯৯৮)। জিনেদিন জিদান-ফ্রান্স (২০০৬)। জন হেইতিঙ্গা-নেদারল্যান্ডস (২০১০)। এনজো ফার্নান্দেজ-আর্জেন্টিনা (২০২৬)।
এদিকে অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে স্পেনের নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল করেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির পায়ে চাপ দিয়েছেন বলে তিনি ফাউলের বাঁশি বাজান। ভিএআর ঘটনাটি পর্যালোচনা করে মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনোর পা সত্যিই ওতামেন্দির পায়ে লেগেছিল। তাই রেফারির সিদ্ধান্তকে ভুল বলা হয়নি। তবে অনেকেই বলছেন ওতামেন্দি বাড়িয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিন্তু ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী, মাঠের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণিত না হলে তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ফলে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং নিকো উইলিয়ামসের গোল নিয়ে ভিএআর সঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন।
_1.png)
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ হোক বা প্রিমিয়ার লিগ কিংবা ফুটবলের অন্য কোনো প্রতিযোগিতা, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে; যার মধ্যে একটি ম্যাচে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। একটি ছিল আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড।
অন্যটি স্পেনের নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হওয়া গোল। পরে স্পেন ১-০ গোলে জয় পাওয়া নিকোর গোল নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তবে এনজোর লাল কার্ড নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ইএসপিএনের এক পোস্টে উঠে এসেছে, দুটি সিদ্ধান্ত কোনো বিতর্ক নেই। ভিএআর সিদ্ধান্ত জানাতে সঠিক মূল্যায়ন করেছে। এনজোর লাল কার্ড নিয়েই শুরুতে আলোচনা করা যাক। ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর কয়েক মুহূর্ত আগে তিনি রেফারির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য প্রথম হলুদ কার্ড পান। এরপর স্পেনের পাও কুবার্সির ওপর দেরিতে ও বেপরোয়া ট্যাকল করলে রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাও এখন ভিএআর পর্যালোচনা করতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে ভিএআর দ্রুতই রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, এনজো বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ঝুঁকিতে ফেলে বেপরোয়া ট্যাকল করেন। তাই তার লাল কার্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। মেট লাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান স্লোভেনিয়ান স্লাভকো ভিনচিচ। আর্জেন্টিনার জন্য ভিনচিচ অনেকটাই ‘অপয়া।
’ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের ২-১ গোলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন তিনিই। সেই হারের পর আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল পযন্ত সবগুলো ম্যাচ জিতেছে। ভিনচিচের হাতে বাঁশি পড়তেই আর্জেন্টিনার কপাল পুড়ে যায়। এনজোর বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে। একই সঙ্গে ২০১০ সালের পর এই প্রথম কোনো ফুটবলার বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া
৬ ফুটবলার পেদ্রো মোনসোন-আর্জেন্টিনা (১৯৯০)। গুস্তাভো দেসোত্তি-আর্জেন্টিনা (১৯৯০)। মার্সেল দেসাইলি-ফ্রান্স (১৯৯৮)। জিনেদিন জিদান-ফ্রান্স (২০০৬)। জন হেইতিঙ্গা-নেদারল্যান্ডস (২০১০)। এনজো ফার্নান্দেজ-আর্জেন্টিনা (২০২৬)।
এদিকে অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে স্পেনের নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল করেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির পায়ে চাপ দিয়েছেন বলে তিনি ফাউলের বাঁশি বাজান। ভিএআর ঘটনাটি পর্যালোচনা করে মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনোর পা সত্যিই ওতামেন্দির পায়ে লেগেছিল। তাই রেফারির সিদ্ধান্তকে ভুল বলা হয়নি। তবে অনেকেই বলছেন ওতামেন্দি বাড়িয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিন্তু ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী, মাঠের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণিত না হলে তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ফলে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং নিকো উইলিয়ামসের গোল নিয়ে ভিএআর সঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন