আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে ফ্রি-ফেয়ার। কোনো রকম বায়াসড হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করেন বিএনপি ক্ষমতায় বলে বাড়তি সুবিধা পাবেন, তাহলে ভুল হবে। নির্বাচন পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। এ জন্য এখন থেকে মানুষের কাছে যেতে হবে। মানুষের সঙ্গে মিশে আস্থা অর্জন করতে হবে। তৃণমূলের নেতাদের এমন নির্দেশনাই দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া গত জাতীয় নির্বাচনে কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে আগামীর জন্য প্রস্তুতি নিতেও বলেছেন দলীয় প্রধান। স্থানীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়েরও নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার এবং রংপুর জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবীব দুলু, সহসাংগঠনিক সস্পাদক আবদুল খালেক, শামীম কায়সার লিংকন এমপিসহ জেলার নেতারা। দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক সভা করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিন গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংগঠনিক এই সভা করেন তিনি। দলের দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার পাশাপাশি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের জন্য নেতাকর্মীদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপির প্রধান। দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলের চেয়ারম্যান তৃণমূলের নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক অবস্থা জেনে নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই মতবিনিময় করেছেন। সরকারের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগে দেশ ও দলের জন্য ত্যাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতির মাঠে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এই মতবিনিময়সভা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।
সভায় অংশ নেওয়া গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা মূলত সাংগঠনিক সভা। এখানে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে কিভাবে সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে বিএনপির নেতারা যাতে আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করেন এবং অতীতে যে ভুলগুলো হয়েছে সেই অভিজ্ঞতা থেকে যেন প্রার্থী বাছাই করা হয়। কোনোভাবেই যেন দলের একাধিক প্রার্থী না হয়।’ এর আগে গত ১৯ জুলাই রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করেন তারেক রহমান। ধারাবাহিক এ সভায় দলীয় কোন্দল নিরসন করে দলকে শক্তিশালী করতে মূল দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে পুনর্গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে দল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তি এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম শেষ করতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান।
_1.png)
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে ফ্রি-ফেয়ার। কোনো রকম বায়াসড হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করেন বিএনপি ক্ষমতায় বলে বাড়তি সুবিধা পাবেন, তাহলে ভুল হবে। নির্বাচন পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। এ জন্য এখন থেকে মানুষের কাছে যেতে হবে। মানুষের সঙ্গে মিশে আস্থা অর্জন করতে হবে। তৃণমূলের নেতাদের এমন নির্দেশনাই দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া গত জাতীয় নির্বাচনে কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে আগামীর জন্য প্রস্তুতি নিতেও বলেছেন দলীয় প্রধান। স্থানীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়েরও নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার এবং রংপুর জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবীব দুলু, সহসাংগঠনিক সস্পাদক আবদুল খালেক, শামীম কায়সার লিংকন এমপিসহ জেলার নেতারা। দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক সভা করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিন গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংগঠনিক এই সভা করেন তিনি। দলের দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার পাশাপাশি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের জন্য নেতাকর্মীদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপির প্রধান। দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলের চেয়ারম্যান তৃণমূলের নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক অবস্থা জেনে নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই মতবিনিময় করেছেন। সরকারের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগে দেশ ও দলের জন্য ত্যাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতির মাঠে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এই মতবিনিময়সভা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।
সভায় অংশ নেওয়া গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা মূলত সাংগঠনিক সভা। এখানে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে কিভাবে সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে বিএনপির নেতারা যাতে আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করেন এবং অতীতে যে ভুলগুলো হয়েছে সেই অভিজ্ঞতা থেকে যেন প্রার্থী বাছাই করা হয়। কোনোভাবেই যেন দলের একাধিক প্রার্থী না হয়।’ এর আগে গত ১৯ জুলাই রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করেন তারেক রহমান। ধারাবাহিক এ সভায় দলীয় কোন্দল নিরসন করে দলকে শক্তিশালী করতে মূল দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে পুনর্গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে দল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তি এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম শেষ করতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন