তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি সরাসরি না মেনে নানান কৌশল অবলম্বন করেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে এই আন্দোলন বিপ্লবে রূপ নেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এজাহারনামীয় আসামি শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা গোপন বৈঠক করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য আন্দোলন প্রতিহত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং পুলিশ অফিসাররা ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য সারা বাংলাদেশ তথা মিরপুরের ছাত্র জনতাকে দমন করার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
আসামিরা ষড়যন্ত্র করে সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তদন্তকালে ভিকটিমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশে হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়মমাফিক লাশ উত্তোলনের জন্য ভিকটিমের কবরস্থানে যান। পরিবারের সদস্যসহ এলাকার লোকজনের আপত্তির কারণে কবর থেকে ভিকটিমের লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন রাকিবুল। ওইদিন রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে পৌঁছালে আসামিদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলি বর্ষণ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে অজ্ঞাত আসামির ছোড়া বুলেটে রাকিবুল হোসেন (২৯) এর গলার বাম পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে নিকটস্থ ড. আজমল হসপিটালে নিলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক্ক ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন এবং রাত ১টার সময় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে ভিকটিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন ২০ জুলাই ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার বাসুদেবপুর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করেন। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন আবু বক্কর।
তিনি জানান, ভিকটিম তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে। তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত এমআইএসটি ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিকালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে সুপার জুটমিলের বনানী হেড অফিসে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। মিরপুর-১১ এ একটি মেসে থাকতো। ওইদিন রাতে তার বন্ধুরা তাকে কল দিয়ে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ দেন। তিনি বলেন, মামলার প্রতিবেদন দাখিলের বিষয় সম্পর্কে অবগত নন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই।
_1.png)
রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি সরাসরি না মেনে নানান কৌশল অবলম্বন করেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে এই আন্দোলন বিপ্লবে রূপ নেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এজাহারনামীয় আসামি শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা গোপন বৈঠক করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য আন্দোলন প্রতিহত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং পুলিশ অফিসাররা ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য সারা বাংলাদেশ তথা মিরপুরের ছাত্র জনতাকে দমন করার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
আসামিরা ষড়যন্ত্র করে সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তদন্তকালে ভিকটিমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশে হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়মমাফিক লাশ উত্তোলনের জন্য ভিকটিমের কবরস্থানে যান। পরিবারের সদস্যসহ এলাকার লোকজনের আপত্তির কারণে কবর থেকে ভিকটিমের লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন রাকিবুল। ওইদিন রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে পৌঁছালে আসামিদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলি বর্ষণ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে অজ্ঞাত আসামির ছোড়া বুলেটে রাকিবুল হোসেন (২৯) এর গলার বাম পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে নিকটস্থ ড. আজমল হসপিটালে নিলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক্ক ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন এবং রাত ১টার সময় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে ভিকটিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন ২০ জুলাই ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার বাসুদেবপুর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করেন। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন আবু বক্কর।
তিনি জানান, ভিকটিম তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে। তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত এমআইএসটি ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিকালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে সুপার জুটমিলের বনানী হেড অফিসে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। মিরপুর-১১ এ একটি মেসে থাকতো। ওইদিন রাতে তার বন্ধুরা তাকে কল দিয়ে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ দেন। তিনি বলেন, মামলার প্রতিবেদন দাখিলের বিষয় সম্পর্কে অবগত নন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন