দৈনিক প্রিয় টাইমস

ফুটপাত, অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও চাঁদাবাজি: ইমেজ সংকটে সরকার


প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফুটপাত, অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও চাঁদাবাজি: ইমেজ সংকটে সরকার

শহরের ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেই ফুটপাত দখল করে বসেছে অসংখ্য অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান।

একদিকে জীবিকার তাগিদে মানুষ রাস্তায় নামছে, অন্যদিকে এসব দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে চাঁদাবাজির নীরব অর্থনীতি। ফলাফল—সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন। ফুটপাত দখল নতুন কিছু নয়। কিন্তু সমস্যাটা জটিল হয়েছে তখনই, যখন এটি একটি “ব্যবস্থাপনা” হয়ে দাঁড়ায়। দোকান বসাতে হলে নাকি টাকা দিতে হয়—কখনও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, কখনও অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী, কখনও নামধারী সংগঠনের কাছে।

মাসিক চাঁদা না দিলে দোকান টিকিয়ে রাখা যায় না। এতে স্পষ্ট হয়, শুধু অবৈধ দখল নয়, এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত স্বার্থগোষ্ঠী। এখানে সরকার দ্বিমুখী চাপে পড়ে। একদিকে আইন অনুযায়ী ফুটপাত দখল অবৈধ—প্রশাসনের দায়িত্ব উচ্ছেদ করা। অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালালেই দেখা যায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারা বলেন, “পেটের দায়ে বসেছি।” ফলে মানবিকতা বনাম আইন—এই দ্বন্দ্ব সামনে আসে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অনিয়মকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে যারা নিয়মিত অর্থ আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে? যখন জনগণ দেখে যে প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি চলছে, অথচ স্থায়ী সমাধান আসছে না, তখন সরকারের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উন্নয়ন, স্মার্ট সিটি, আধুনিক নগরব্যবস্থার কথা বলা হয়; কিন্তু ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না—এই বাস্তবতা সরকারের ইমেজে সরাসরি আঘাত হানে।

আইন সবার জন্য সমান কি না, সেটাও আলোচনায় আসে। সমাধান একমাত্র উচ্ছেদ নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন। নির্দিষ্ট স্থানে হকার জোন তৈরি করা, স্বল্প ভাড়ায় লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা, ডিজিটাল নিবন্ধন করা—এগুলো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হতে পারে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী মনিটরিং জরুরি। সরকারের ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে শুধু বড় প্রকল্প দিয়ে নয়, নাগরিকের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা দিয়েও। মানুষ যদি নিরাপদে হাঁটতে না পারে, ন্যায্য নিয়মে ব্যবসা করতে না পারে, তাহলে উন্নয়নের গল্প বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো তাই ছোট নয়—এগুলোই সরকারের সুশাসনের পরীক্ষার জায়গা। সত্যিকারের ইমেজ সংকট তখনই কেটে যাবে, যখন আইন প্রয়োগ হবে ন্যায়সংগতভাবে, দুর্নীতির শিকড় কাটা হবে, আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পাবেন একটি বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়গা।

 লেখক: সাংবাদিক মোঃ মিরাজুল ইসলাম

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রিয় টাইমস

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


ফুটপাত, অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও চাঁদাবাজি: ইমেজ সংকটে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

শহরের ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেই ফুটপাত দখল করে বসেছে অসংখ্য অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান।

একদিকে জীবিকার তাগিদে মানুষ রাস্তায় নামছে, অন্যদিকে এসব দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে চাঁদাবাজির নীরব অর্থনীতি। ফলাফল—সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্ন। ফুটপাত দখল নতুন কিছু নয়। কিন্তু সমস্যাটা জটিল হয়েছে তখনই, যখন এটি একটি “ব্যবস্থাপনা” হয়ে দাঁড়ায়। দোকান বসাতে হলে নাকি টাকা দিতে হয়—কখনও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, কখনও অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী, কখনও নামধারী সংগঠনের কাছে।

মাসিক চাঁদা না দিলে দোকান টিকিয়ে রাখা যায় না। এতে স্পষ্ট হয়, শুধু অবৈধ দখল নয়, এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত স্বার্থগোষ্ঠী। এখানে সরকার দ্বিমুখী চাপে পড়ে। একদিকে আইন অনুযায়ী ফুটপাত দখল অবৈধ—প্রশাসনের দায়িত্ব উচ্ছেদ করা। অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালালেই দেখা যায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারা বলেন, “পেটের দায়ে বসেছি।” ফলে মানবিকতা বনাম আইন—এই দ্বন্দ্ব সামনে আসে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অনিয়মকে টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে যারা নিয়মিত অর্থ আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে? যখন জনগণ দেখে যে প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি চলছে, অথচ স্থায়ী সমাধান আসছে না, তখন সরকারের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উন্নয়ন, স্মার্ট সিটি, আধুনিক নগরব্যবস্থার কথা বলা হয়; কিন্তু ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না—এই বাস্তবতা সরকারের ইমেজে সরাসরি আঘাত হানে।

আইন সবার জন্য সমান কি না, সেটাও আলোচনায় আসে। সমাধান একমাত্র উচ্ছেদ নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন। নির্দিষ্ট স্থানে হকার জোন তৈরি করা, স্বল্প ভাড়ায় লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা, ডিজিটাল নিবন্ধন করা—এগুলো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হতে পারে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী মনিটরিং জরুরি। সরকারের ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে শুধু বড় প্রকল্প দিয়ে নয়, নাগরিকের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা দিয়েও। মানুষ যদি নিরাপদে হাঁটতে না পারে, ন্যায্য নিয়মে ব্যবসা করতে না পারে, তাহলে উন্নয়নের গল্প বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলো তাই ছোট নয়—এগুলোই সরকারের সুশাসনের পরীক্ষার জায়গা। সত্যিকারের ইমেজ সংকট তখনই কেটে যাবে, যখন আইন প্রয়োগ হবে ন্যায়সংগতভাবে, দুর্নীতির শিকড় কাটা হবে, আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পাবেন একটি বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়গা।

 লেখক: সাংবাদিক মোঃ মিরাজুল ইসলাম


দৈনিক প্রিয় টাইমস

সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক
নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ
বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার
প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com