দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ-ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামবে আগামীকাল রোববার। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে বসবে জমকালো আয়োজন। যে আয়োজনের মধ্যমনি হয়ে থাকবেন আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি। তাকে আটকানোর জন্য প্রস্তুত স্পেন। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আরেকটি শিরোপার খোঁজে তারা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চতুর্থ শিরোপার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে আয়োজকদের আয়োজনের কোনো কমতি নেই। ম্যাচের আগে-পরের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ম্যাচের বিরতিতেও বড় আয়োজনে উৎসব রাঙাতে চায় ফিফা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ম্যাচের মধ্যবর্তী বিরতির সময় কনসার্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে।
ফলে বিরতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ হচ্ছে। এই অতিরিক্ত বিরতি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন ফিজিক্যাল ট্রেইনার লুইস তেতেও। তেতেও বলেন, ‘একটি ম্যাচের শুরুতে সব খেলোয়াড় একই মাত্রার মনোযোগ নিয়ে মাঠে নামেন না। কেউ কেউ শুরু থেকেই পুরোপুরি সতর্ক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন, আবার অনেকের ম্যাচের গতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে তারা ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং খেলার ছন্দে ফিরে আসেন।’ তার মতে, কনসার্টের কারণে বিরতির সময় অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে গেলে সেই মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের অনেকটা নতুন করে ম্যাচের তীব্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। লুইস তেতেও আরও ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘ বিরতির কারণে খেলোয়াড়দের মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে সহজ পাসেও ভুল হয়, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় নষ্ট হয়, পজিশনিংয়ে ভুল দেখা যায় এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অসঙ্গতি তৈরি হয়।
এসব কারণে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলগুলো অপ্রত্যাশিত ভুল করে বসে, যা সরাসরি ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, শুধু শারীরিক ফিটনেস নয়, একটি ম্যাচে মানসিক প্রস্তুতি ও একাগ্রতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিরতির সময় অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে গেলে খেলোয়াড়দের সেই প্রতিযোগিতামূলক মানসিক অবস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ম্যাচের গতি, ছন্দ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফিজিক্যাল ট্রেইনারের মতে, এমন পরিস্থিতি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বের মতো উচ্চ চাপের ম্যাচে সামান্য মনোযোগের ঘাটতিও বড় ধরনের ভুলের কারণ হতে পারে। তাই খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ম্যাচের বিরতির সময় যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’ এবারের বিশ্বকাপের হাইড্রেশন ব্রেক এমনিতেই উন্মাদনা, উত্তেজনা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। ফাইনালেও থাকবে এই ব্রেক। সঙ্গে বিরতি করা হয়েছে ১৭ মিনিট। যেখানে পারফর্ম করবেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, শাকিরা এবং কে-পপ সেনসেশন বিটিএস। ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঞ্জার, রবি উইলিয়ামস এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিড। এছাড়া বিশেষ উপস্থিতি থাকবে হলিউড তারকা টম ক্রুজের। ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন এমি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি পুরস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসন।
তার উপস্থিতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহকে আরও রঙিন করে তুলবে বলে আশা করছে আয়োজকরা। ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকরা আগেভাগেই সমাপণী আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন। সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। ফাইনাল শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে এই আয়োজন। এজন্য স্টডিয়ামের গেট খুলে দেয়া হবে বেলা ১১টায়।
_1.png)
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ-ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামবে আগামীকাল রোববার। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে বসবে জমকালো আয়োজন। যে আয়োজনের মধ্যমনি হয়ে থাকবেন আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি। তাকে আটকানোর জন্য প্রস্তুত স্পেন। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আরেকটি শিরোপার খোঁজে তারা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চতুর্থ শিরোপার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে আয়োজকদের আয়োজনের কোনো কমতি নেই। ম্যাচের আগে-পরের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ম্যাচের বিরতিতেও বড় আয়োজনে উৎসব রাঙাতে চায় ফিফা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ম্যাচের মধ্যবর্তী বিরতির সময় কনসার্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে।
ফলে বিরতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ হচ্ছে। এই অতিরিক্ত বিরতি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন ফিজিক্যাল ট্রেইনার লুইস তেতেও। তেতেও বলেন, ‘একটি ম্যাচের শুরুতে সব খেলোয়াড় একই মাত্রার মনোযোগ নিয়ে মাঠে নামেন না। কেউ কেউ শুরু থেকেই পুরোপুরি সতর্ক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন, আবার অনেকের ম্যাচের গতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে তারা ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং খেলার ছন্দে ফিরে আসেন।’ তার মতে, কনসার্টের কারণে বিরতির সময় অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে গেলে সেই মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের অনেকটা নতুন করে ম্যাচের তীব্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। লুইস তেতেও আরও ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘ বিরতির কারণে খেলোয়াড়দের মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে সহজ পাসেও ভুল হয়, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় নষ্ট হয়, পজিশনিংয়ে ভুল দেখা যায় এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অসঙ্গতি তৈরি হয়।
এসব কারণে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলগুলো অপ্রত্যাশিত ভুল করে বসে, যা সরাসরি ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, শুধু শারীরিক ফিটনেস নয়, একটি ম্যাচে মানসিক প্রস্তুতি ও একাগ্রতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিরতির সময় অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে গেলে খেলোয়াড়দের সেই প্রতিযোগিতামূলক মানসিক অবস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ম্যাচের গতি, ছন্দ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফিজিক্যাল ট্রেইনারের মতে, এমন পরিস্থিতি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বের মতো উচ্চ চাপের ম্যাচে সামান্য মনোযোগের ঘাটতিও বড় ধরনের ভুলের কারণ হতে পারে। তাই খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ম্যাচের বিরতির সময় যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’ এবারের বিশ্বকাপের হাইড্রেশন ব্রেক এমনিতেই উন্মাদনা, উত্তেজনা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। ফাইনালেও থাকবে এই ব্রেক। সঙ্গে বিরতি করা হয়েছে ১৭ মিনিট। যেখানে পারফর্ম করবেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, শাকিরা এবং কে-পপ সেনসেশন বিটিএস। ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঞ্জার, রবি উইলিয়ামস এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিড। এছাড়া বিশেষ উপস্থিতি থাকবে হলিউড তারকা টম ক্রুজের। ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন এমি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি পুরস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসন।
তার উপস্থিতি বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহকে আরও রঙিন করে তুলবে বলে আশা করছে আয়োজকরা। ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকরা আগেভাগেই সমাপণী আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন। সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। ফাইনাল শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে এই আয়োজন। এজন্য স্টডিয়ামের গেট খুলে দেয়া হবে বেলা ১১টায়।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন