দৈনিক প্রিয় টাইমস

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কে



পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭ আসনে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাওয়া দলটিকে বিধানসভায় কে নেতৃত্ব দেবেন বা মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।

 

দলনেতা বাছার জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যবেক্ষক হিসেবে অমিত শাহ এবং সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় তাদের উপস্থিতিতে জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম। পশ্চিমবঙ্গের আগামী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতার নাম।

 

 

তবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাবেক রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, আরেক সাবেক রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক দিলীপ ঘোষ এবং বিধায়ক সৌরভ শিকদার আছেন এই তালিকায়। শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে এগিয়ে রাখার বিষয়ে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে রাজ্য বিজেপির কাছে। এর প্রধান দুটি হলো—বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে ও ২০২৬ সালে ভবানীপুরে টানা দুইদফা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

 

 

 অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভাপতি। খাতাকলমে তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। তবে তিনি এবার ভোটে লড়েননি। মুখ্যমন্ত্রী হলে ৬ মাসের মধ্যে তাকে উপনির্বাচনে (সম্ভাবনা শুভেন্দুর ছেড়ে দেওয়া আসনে) জিতে আসতে হবে। এবারের নির্বাচনে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বড় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। এই অঞ্চলের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টিতে জিতেছে দলটি। ফলে উত্তরবঙ্গের কাণ্ডারি হিসেবে দলটির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবিও বেশ জোরালো।

 

 

এছাড়া, বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে স্বপন দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে রয়েছেন। আরএসএস-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত তপন শিকদারের ভাইপো ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব রাখা তরুণ নেতা সৌরভ শিকদার এবং সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। তবে, মধ্যপ্রদেশ বা দিল্লির মতো একেবারে অচেনা কোনো মুখকে মুখ্যমন্ত্রী করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব চমক দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস আমলে গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ছিল মমতার হাতে।

 

 

 বিজেপির নতুন সরকারে এই প্রথা ভেঙে এক বা একাধিক উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি দপ্তরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মন্ত্রিসভা ও শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছে— দিলীপ ঘোষ, জগন্নাথ সরকার, স্বপন দাশগুপ্ত, সুকান্ত মজুমদার, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রূপা গাঙ্গুলি, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ, ইন্দ্রনীল খাঁ, শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক ও অশোক লাহিড়ীর নাম। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী ৯ মে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।

 

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৮০টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ বাতিল হয়েছে একটি আসনের ভোট। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক প্রিয় টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭ আসনে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাওয়া দলটিকে বিধানসভায় কে নেতৃত্ব দেবেন বা মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।

 

দলনেতা বাছার জন্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যবেক্ষক হিসেবে অমিত শাহ এবং সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় তাদের উপস্থিতিতে জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম। পশ্চিমবঙ্গের আগামী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতার নাম।

 

 

তবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাবেক রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, আরেক সাবেক রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক দিলীপ ঘোষ এবং বিধায়ক সৌরভ শিকদার আছেন এই তালিকায়। শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে এগিয়ে রাখার বিষয়ে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে রাজ্য বিজেপির কাছে। এর প্রধান দুটি হলো—বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে ও ২০২৬ সালে ভবানীপুরে টানা দুইদফা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

 

 

 অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভাপতি। খাতাকলমে তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। তবে তিনি এবার ভোটে লড়েননি। মুখ্যমন্ত্রী হলে ৬ মাসের মধ্যে তাকে উপনির্বাচনে (সম্ভাবনা শুভেন্দুর ছেড়ে দেওয়া আসনে) জিতে আসতে হবে। এবারের নির্বাচনে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বড় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। এই অঞ্চলের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টিতে জিতেছে দলটি। ফলে উত্তরবঙ্গের কাণ্ডারি হিসেবে দলটির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবিও বেশ জোরালো।

 

 

এছাড়া, বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে স্বপন দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে রয়েছেন। আরএসএস-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত তপন শিকদারের ভাইপো ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব রাখা তরুণ নেতা সৌরভ শিকদার এবং সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। তবে, মধ্যপ্রদেশ বা দিল্লির মতো একেবারে অচেনা কোনো মুখকে মুখ্যমন্ত্রী করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব চমক দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস আমলে গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ছিল মমতার হাতে।

 

 

 বিজেপির নতুন সরকারে এই প্রথা ভেঙে এক বা একাধিক উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি দপ্তরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মন্ত্রিসভা ও শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছে— দিলীপ ঘোষ, জগন্নাথ সরকার, স্বপন দাশগুপ্ত, সুকান্ত মজুমদার, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রূপা গাঙ্গুলি, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ, ইন্দ্রনীল খাঁ, শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক ও অশোক লাহিড়ীর নাম। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী ৯ মে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।

 

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৮০টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ বাতিল হয়েছে একটি আসনের ভোট। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে।


দৈনিক প্রিয় টাইমস

সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক
নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ
বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার
প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক : মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, নির্বাহী সম্পাদক : নূর হাসান আকাশ , বার্তা সম্পাদক : মেহেদী হাসান তালুকদার , প্রকাশক : মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম .. বার্তা বাণিজ্য কার্যালয় : ২১৭ ফকিরাপুল প্রথম লেন,আরামবাগ,মতিঝিল । ঢাকা-১০০০। যোগাযোগ: +8801744552281 ইমেইল : newspriyotimes@gmail.com