আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে তীব্র সমালোচনা। লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়া মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে স্পষ্টতই রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি আঙুল তুলেছেন। আটালান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই রেফারির নাম ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত মুখ লেতেক্সিয়ে হলেও, মিশরের বিপক্ষে নেওয়া তার সিদ্ধান্তগুলো এখন অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ।
এরপর থেকেই আলোচনায় কে এই রেফারি, তার ক্যারিয়ারই বা কেমন?
১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের ব্রিটানিতে জন্ম নেওয়া লেতেক্সিয়ে ২০১৬ সালে ফরাসি লিগ ওয়ানে নিজের যাত্রা শুরু করেন। ২০১৭ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি দ্রুতই উয়েফার এলিট ক্যাটাগরির রেফারি হয়ে ওঠেন। ইউরোপীয় ফুটবলের বড় বড় ম্যাচে তার বাঁশি দেখা গেছে নিয়মিত। তার পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২১ ইউরোপা লিগ ফাইনাল (ভিয়ারিয়াল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ২০২৩ উয়েফা সুপার কাপ ফাইনাল (ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সেভিয়া), ইউরো ২০২৪ ফাইনাল (স্পেন বনাম ইংল্যান্ড) ও ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফ্লুমিনেন্সে বনাম চেলসি সেমিফাইনাল। মেসি ও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন রিভালদো ক্যারিয়ারজুড়ে খুব বেশি বিতর্কে না জড়ালেও, ২০২২ সালে নিস বনাম নঁতের একটি ম্যাচে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। সেদিন ভিএআর ব্যবহার করে নঁতের পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
এছাড়া ম্যাচে সাতটি হলুদ কার্ড এবং দুটি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি কঠোর রেফারিংয়ের পরিচয় দিয়েছিলেন। মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা, প্রশ্নের মুখে ভিএআর ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের আগে লেতেক্সিয়ে দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। সেই দুই ম্যাচে তিনি মোট আটটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। তবে কোনো পেনাল্টি দেননি, লাল কার্ডও দেখাতে হয়নি তাকে। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অবশ্য লেতেক্সিয়ের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ম্যাচে লেতেক্সিয়ে যে পেনাল্টি বা ফাউলের সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলেন, তা সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মিশরের দুটি পেনাল্টির দাবি নাকচ করে দেওয়া এবং ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে এখন চলছে তোলপাড়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশ প্রশ্ন তুলছেন, ইউরো ফাইনালের মতো বড় ম্যাচের দায়িত্ব সামলানো একজন অভিজ্ঞ রেফারি কেন এই ম্যাচে এতটা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিলেন? মিশরের জয় বঞ্চিত হওয়ার নেপথ্যে রেফারির এই ভূমিকা এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ও সমালোচিত অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
_1.png)
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে তীব্র সমালোচনা। লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়া মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে স্পষ্টতই রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি আঙুল তুলেছেন। আটালান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই রেফারির নাম ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত মুখ লেতেক্সিয়ে হলেও, মিশরের বিপক্ষে নেওয়া তার সিদ্ধান্তগুলো এখন অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ।
এরপর থেকেই আলোচনায় কে এই রেফারি, তার ক্যারিয়ারই বা কেমন?
১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের ব্রিটানিতে জন্ম নেওয়া লেতেক্সিয়ে ২০১৬ সালে ফরাসি লিগ ওয়ানে নিজের যাত্রা শুরু করেন। ২০১৭ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি দ্রুতই উয়েফার এলিট ক্যাটাগরির রেফারি হয়ে ওঠেন। ইউরোপীয় ফুটবলের বড় বড় ম্যাচে তার বাঁশি দেখা গেছে নিয়মিত। তার পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২১ ইউরোপা লিগ ফাইনাল (ভিয়ারিয়াল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ২০২৩ উয়েফা সুপার কাপ ফাইনাল (ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সেভিয়া), ইউরো ২০২৪ ফাইনাল (স্পেন বনাম ইংল্যান্ড) ও ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফ্লুমিনেন্সে বনাম চেলসি সেমিফাইনাল। মেসি ও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন রিভালদো ক্যারিয়ারজুড়ে খুব বেশি বিতর্কে না জড়ালেও, ২০২২ সালে নিস বনাম নঁতের একটি ম্যাচে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। সেদিন ভিএআর ব্যবহার করে নঁতের পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
এছাড়া ম্যাচে সাতটি হলুদ কার্ড এবং দুটি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি কঠোর রেফারিংয়ের পরিচয় দিয়েছিলেন। মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা, প্রশ্নের মুখে ভিএআর ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের আগে লেতেক্সিয়ে দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। সেই দুই ম্যাচে তিনি মোট আটটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। তবে কোনো পেনাল্টি দেননি, লাল কার্ডও দেখাতে হয়নি তাকে। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অবশ্য লেতেক্সিয়ের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ম্যাচে লেতেক্সিয়ে যে পেনাল্টি বা ফাউলের সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলেন, তা সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মিশরের দুটি পেনাল্টির দাবি নাকচ করে দেওয়া এবং ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে এখন চলছে তোলপাড়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশ প্রশ্ন তুলছেন, ইউরো ফাইনালের মতো বড় ম্যাচের দায়িত্ব সামলানো একজন অভিজ্ঞ রেফারি কেন এই ম্যাচে এতটা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিলেন? মিশরের জয় বঞ্চিত হওয়ার নেপথ্যে রেফারির এই ভূমিকা এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ও সমালোচিত অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন