বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে তর্কের সময় বর্ণবাদবিরোধী কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করেননি বলে দাবি করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন মেসি। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা এবং নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল। পরে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আলবিসেলেস্তারা এখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের অপেক্ষায়।
সংবাদমাধ্যম দ্য সানের খবরে বলা হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে একটি অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় ৫৯ বছর বয়সী হাসানকে। পরে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাকে হলুদ কার্ড দেখান। ওই অঙ্গভঙ্গিকে অনেকেই বর্ণবাদবিরোধী ইশারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলে হাসান বলেন, ‘ওটা বর্ণবাদ নিয়ে কোনো ইঙ্গিত ছিল না। আমি রেফারিকে বলতে চেয়েছিলাম, ‘আপনি ন্যায্য আচরণ করছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেসি আমার কাছে এসে বলেছিল, ‘কেন? কেন? কেন?’ এরপরও সে আরও কিছু বলেছিল।’ ‘ম্যাচ চলাকালে খুব কম সময়ই মেসিকে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবেগের কারণে সে কেঁদে ফেলেছিল,’ যোগ করেন তিনি। মিশরের কোচ বলেন, ‘আমরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলাম এবং তাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছিলাম। তার ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি তার কথার জবাব দিইনি এবং আমাদের মধ্যে যেন আর কোনো কথার সংঘাত না হয়, সেটিই চেষ্টা করেছি।’ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হোসাম হাসান ও মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের কঠোর সমালোচনা করেন। ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল করা হয়।
এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান বলেন, ‘আমরা সম্মান বা ফেয়ার প্লে কিছুই দেখিনি। মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর চাপ ছিল, যার ফলেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘জীবন অন্যায্য, পৃথিবীও অন্যায্য। ঠিক আছে। কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই ফল কিংবা ম্যাচ যেভাবে এগিয়েছে, তা আমি মেনে নিতে পারছি না।’ ‘রেফারি ন্যায়সঙ্গত ছিলেন না’ উল্লেখ করে হোসাম হাসান বলেন, ‘তিনি একটি জাতির পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে, এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পরে গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ৩৯ বছর বয়সী মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দেন। এর আগে একটি গোল বাতিল হওয়ার পর মোস্তফা জিকো দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
_1.png)
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে তর্কের সময় বর্ণবাদবিরোধী কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করেননি বলে দাবি করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন মেসি। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা এবং নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল। পরে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আলবিসেলেস্তারা এখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের অপেক্ষায়।
সংবাদমাধ্যম দ্য সানের খবরে বলা হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে একটি অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় ৫৯ বছর বয়সী হাসানকে। পরে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাকে হলুদ কার্ড দেখান। ওই অঙ্গভঙ্গিকে অনেকেই বর্ণবাদবিরোধী ইশারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলে হাসান বলেন, ‘ওটা বর্ণবাদ নিয়ে কোনো ইঙ্গিত ছিল না। আমি রেফারিকে বলতে চেয়েছিলাম, ‘আপনি ন্যায্য আচরণ করছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেসি আমার কাছে এসে বলেছিল, ‘কেন? কেন? কেন?’ এরপরও সে আরও কিছু বলেছিল।’ ‘ম্যাচ চলাকালে খুব কম সময়ই মেসিকে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবেগের কারণে সে কেঁদে ফেলেছিল,’ যোগ করেন তিনি। মিশরের কোচ বলেন, ‘আমরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলাম এবং তাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছিলাম। তার ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি তার কথার জবাব দিইনি এবং আমাদের মধ্যে যেন আর কোনো কথার সংঘাত না হয়, সেটিই চেষ্টা করেছি।’ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হোসাম হাসান ও মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের কঠোর সমালোচনা করেন। ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল করা হয়।
এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান বলেন, ‘আমরা সম্মান বা ফেয়ার প্লে কিছুই দেখিনি। মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর চাপ ছিল, যার ফলেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘জীবন অন্যায্য, পৃথিবীও অন্যায্য। ঠিক আছে। কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই ফল কিংবা ম্যাচ যেভাবে এগিয়েছে, তা আমি মেনে নিতে পারছি না।’ ‘রেফারি ন্যায়সঙ্গত ছিলেন না’ উল্লেখ করে হোসাম হাসান বলেন, ‘তিনি একটি জাতির পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে, এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পরে গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ৩৯ বছর বয়সী মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দেন। এর আগে একটি গোল বাতিল হওয়ার পর মোস্তফা জিকো দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন