নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এটি জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামোর সমন্বয় করতেই সময় লাগছে।
এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রচলিত বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে শুধু গ্রেড নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সব গ্রেডে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন। ঢাকা-চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতার শঙ্কা / আবহাওয়া নিয়ে সারা দেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় পরিকল্পনা, কোন গ্রেডের বেতন-ভাতা কত সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ইনক্রিমেন্ট নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। একই জরিপে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। নতুন বেতন-কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ওই জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।
বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭ দশমিক ৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯ দশমিক ৪। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতন-কাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
_1.png)
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এটি জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামোর সমন্বয় করতেই সময় লাগছে।
এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রচলিত বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে শুধু গ্রেড নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সব গ্রেডে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন। ঢাকা-চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতার শঙ্কা / আবহাওয়া নিয়ে সারা দেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় পরিকল্পনা, কোন গ্রেডের বেতন-ভাতা কত সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ইনক্রিমেন্ট নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। একই জরিপে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। নতুন বেতন-কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ওই জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।
বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭ দশমিক ৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯ দশমিক ৪। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতন-কাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন