ফ্রান্স নাকি মরক্কো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে সেমিফাইনালে উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মাঠের ৯০ মিনিট কিংবা তারও বেশি সময়।
তবে ম্যাচ শুরুর আগে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) পূর্বাভাস মডেল এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখছে। যদিও বিশ্লেষকরা একই সঙ্গে সতর্ক করে বলছেন, নকআউট ফুটবলে মরক্কোর লড়াকু মানসিকতা এবং সংগঠিত রক্ষণ যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে কেউই পিছিয়ে নেই। ফ্রান্স শেষ ষোলোতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
এরপর প্যারাগুয়েকের বিপক্ষেও ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ৩২ এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে বিদায় করার পর শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে আফ্রিকার প্রতিনিধিরাও বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে। বিভিন্ন এআই-ভিত্তিক ফুটবল পূর্বাভাস মডেলের বিশ্লেষণে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলটির শক্তিশালী আক্রমণভাগ, বল দখলে আধিপত্য, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা।
চলতি আসরে নকআউট পর্বে ফ্রান্স তুলনামূলক বেশি গোল করেছে এবং তৈরি হওয়া সুযোগগুলোরও কার্যকর ব্যবহার করেছে। অভিজ্ঞ ও বিকল্পসমৃদ্ধ স্কোয়াড তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে মরক্কোকেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দিয়েছে মরক্কো। একই সঙ্গে সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে গিয়ে গোল আদায়ের সক্ষমতাও দেখিয়েছে তারা।
এ কারণেই এআই মডেলগুলো ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখলেও মরক্কোর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেলের গড় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। ম্যাচ ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মরক্কোর সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এদিকে পরিসংখ্যানভিত্তিক ক্রীড়া বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটারও ফ্রান্সকে এগিয়ে রেখেছে।
২৫ হাজারবার ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়ে করা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ। মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং বাকি ২২ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়াতে পারে। তবে পরিসংখ্যান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাস শেষ পর্যন্ত মাঠের ফল নিশ্চিত করতে পারে না। নকআউট পর্বের ফুটবলে একটি গোল, একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।
তাই কাগজে-কলমে এবং এআই বিশ্লেষণে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও চমক দেখানোর সামর্থ্য মরক্কোরও রয়েছে। সেই কারণেই বিশ্বকাপের এই কোয়ার্টার ফাইনালকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উপভোগ্য ও অনিশ্চিত লড়াইগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
_1.png)
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্স নাকি মরক্কো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে সেমিফাইনালে উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মাঠের ৯০ মিনিট কিংবা তারও বেশি সময়।
তবে ম্যাচ শুরুর আগে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) পূর্বাভাস মডেল এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখছে। যদিও বিশ্লেষকরা একই সঙ্গে সতর্ক করে বলছেন, নকআউট ফুটবলে মরক্কোর লড়াকু মানসিকতা এবং সংগঠিত রক্ষণ যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে কেউই পিছিয়ে নেই। ফ্রান্স শেষ ষোলোতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
এরপর প্যারাগুয়েকের বিপক্ষেও ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ৩২ এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে বিদায় করার পর শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে আফ্রিকার প্রতিনিধিরাও বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে। বিভিন্ন এআই-ভিত্তিক ফুটবল পূর্বাভাস মডেলের বিশ্লেষণে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলটির শক্তিশালী আক্রমণভাগ, বল দখলে আধিপত্য, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা।
চলতি আসরে নকআউট পর্বে ফ্রান্স তুলনামূলক বেশি গোল করেছে এবং তৈরি হওয়া সুযোগগুলোরও কার্যকর ব্যবহার করেছে। অভিজ্ঞ ও বিকল্পসমৃদ্ধ স্কোয়াড তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে মরক্কোকেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দিয়েছে মরক্কো। একই সঙ্গে সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে গিয়ে গোল আদায়ের সক্ষমতাও দেখিয়েছে তারা।
এ কারণেই এআই মডেলগুলো ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখলেও মরক্কোর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেলের গড় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। ম্যাচ ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে মরক্কোর সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এদিকে পরিসংখ্যানভিত্তিক ক্রীড়া বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটারও ফ্রান্সকে এগিয়ে রেখেছে।
২৫ হাজারবার ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়ে করা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ। মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং বাকি ২২ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়াতে পারে। তবে পরিসংখ্যান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাস শেষ পর্যন্ত মাঠের ফল নিশ্চিত করতে পারে না। নকআউট পর্বের ফুটবলে একটি গোল, একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।
তাই কাগজে-কলমে এবং এআই বিশ্লেষণে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও চমক দেখানোর সামর্থ্য মরক্কোরও রয়েছে। সেই কারণেই বিশ্বকাপের এই কোয়ার্টার ফাইনালকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উপভোগ্য ও অনিশ্চিত লড়াইগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন