আমেরিকার মাটিতে পা রাখার পর থেকেই এক আশ্চর্য ম্যাজিক দেখা। ‘বাংলাদেশ’ শুনলেই কেমন যেন বুয়েনস আইরেসের চেনা কড়া কফির গন্ধ এসে ধাক্কা মারে, ম্যারাডোনা-মেসির দেশের মানুষগুলো বুকে টেনে নেয় আপন ভাইয়ের মতো। ক’দিন আগে মিক্সড জোনে ঠিক এভাবেই ‘বাংলাদেশ’ ডাক শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসার কথা। আর আজ আটলান্টার প্রেস কনফারেন্সে যেন তারই পুনরাবৃত্তি করলেন মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
হাজার হাজার মাইল দূরের এক বদ্বীপের উন্মাদনাকে যেভাবে তিনি কুর্নিশ জানালেন, যেভাবে স্বীকার করলেন দূর দেশের এই নীল-সাদা আবেগকে, তাতে মনে হচ্ছিল— ফুটবল শুধু ট্রফি জেতার লড়াই নয়, ফুটবল আসলে এক নিঃশর্ত ভালোবাসার নাম, যা আটলান্টা আর ঢাকাকে এক সুতোয় বেঁধে দিতে পারে কোনো ভিসার তোয়াক্কা না করেই! ‘বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবারই আমাদেরকে বিস্মিত করে। আর্জেন্টিনা থেকে এতো দুরের একটি দেশ–তবুও আপনাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা। সত্যিই অভূতপূর্ব।’ তার সামনে প্রশ্নটি ছিল এক বাংলাদেশি সাংবাদিকেরই। ‘আপনি হয়ত জানেন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আপনাদেরকে সমর্থন করেন। আগামীকাল আরও একটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নামছে। তার আগে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি ? ইংরেজি প্রশ্নের স্প্যানিশ অনুবাদ কানে রাখা অনুবাদক অ্যাপ দিয়ে শুনছিলেনে স্কালাোনি। উত্তরটাও দিলেন সেই স্প্যানিশেই। সবশেষে তার মুখে ‘গ্রাসিয়াস বাংলাদেশ’। বাংলায় যার অর্থ ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ’। এমনিতে এই ধরনের সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ছাড়া কোন প্রশ্নই নেন না আর্জেন্টিনার মিডিয়া ম্যানেজার।
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রতি একটা কৌতূহলও তৈরি হয়েছে তারা। তাই আজ সংবাদ সম্মেলন একজনকে সেই সুযোগ করে দেন। আর তার উত্তর দিতে গিয়েই স্কালোনি বলেন, ‘আপনাদের দেশের মানুষকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে গর্বের সঙ্গে দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি। আপনাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ, ধন্যবাদ বাংলাদেশ।’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অগ্নিগর্ভ সেমিফাইনালের আগে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নামটি শুনেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় লিওনেল স্কালোনির চেনা, গম্ভীর কর্পোরেট মুখচ্ছবি। বুনো দ্বৈরথের সব স্ট্র্যাটেজি, ফকল্যান্ডের কাঁটাতার আর থমাস টুখেলের ট্যাকটিক্স এক লহমায় উবে গিয়ে সেই টেবিলে ভর করে বাংলাদেশের জন্য এক অদ্ভুত মায়া!
_1.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
আমেরিকার মাটিতে পা রাখার পর থেকেই এক আশ্চর্য ম্যাজিক দেখা। ‘বাংলাদেশ’ শুনলেই কেমন যেন বুয়েনস আইরেসের চেনা কড়া কফির গন্ধ এসে ধাক্কা মারে, ম্যারাডোনা-মেসির দেশের মানুষগুলো বুকে টেনে নেয় আপন ভাইয়ের মতো। ক’দিন আগে মিক্সড জোনে ঠিক এভাবেই ‘বাংলাদেশ’ ডাক শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসার কথা। আর আজ আটলান্টার প্রেস কনফারেন্সে যেন তারই পুনরাবৃত্তি করলেন মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
হাজার হাজার মাইল দূরের এক বদ্বীপের উন্মাদনাকে যেভাবে তিনি কুর্নিশ জানালেন, যেভাবে স্বীকার করলেন দূর দেশের এই নীল-সাদা আবেগকে, তাতে মনে হচ্ছিল— ফুটবল শুধু ট্রফি জেতার লড়াই নয়, ফুটবল আসলে এক নিঃশর্ত ভালোবাসার নাম, যা আটলান্টা আর ঢাকাকে এক সুতোয় বেঁধে দিতে পারে কোনো ভিসার তোয়াক্কা না করেই! ‘বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবারই আমাদেরকে বিস্মিত করে। আর্জেন্টিনা থেকে এতো দুরের একটি দেশ–তবুও আপনাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা। সত্যিই অভূতপূর্ব।’ তার সামনে প্রশ্নটি ছিল এক বাংলাদেশি সাংবাদিকেরই। ‘আপনি হয়ত জানেন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আপনাদেরকে সমর্থন করেন। আগামীকাল আরও একটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নামছে। তার আগে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি ? ইংরেজি প্রশ্নের স্প্যানিশ অনুবাদ কানে রাখা অনুবাদক অ্যাপ দিয়ে শুনছিলেনে স্কালাোনি। উত্তরটাও দিলেন সেই স্প্যানিশেই। সবশেষে তার মুখে ‘গ্রাসিয়াস বাংলাদেশ’। বাংলায় যার অর্থ ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ’। এমনিতে এই ধরনের সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ছাড়া কোন প্রশ্নই নেন না আর্জেন্টিনার মিডিয়া ম্যানেজার।
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রতি একটা কৌতূহলও তৈরি হয়েছে তারা। তাই আজ সংবাদ সম্মেলন একজনকে সেই সুযোগ করে দেন। আর তার উত্তর দিতে গিয়েই স্কালোনি বলেন, ‘আপনাদের দেশের মানুষকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে গর্বের সঙ্গে দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি। আপনাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ, ধন্যবাদ বাংলাদেশ।’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অগ্নিগর্ভ সেমিফাইনালের আগে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নামটি শুনেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় লিওনেল স্কালোনির চেনা, গম্ভীর কর্পোরেট মুখচ্ছবি। বুনো দ্বৈরথের সব স্ট্র্যাটেজি, ফকল্যান্ডের কাঁটাতার আর থমাস টুখেলের ট্যাকটিক্স এক লহমায় উবে গিয়ে সেই টেবিলে ভর করে বাংলাদেশের জন্য এক অদ্ভুত মায়া!
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন