বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। একই কাজ করে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজেদের জায়গা থেকে তারা প্রত্যেকেই ভারতকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফর করার সূচি রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। গত বছর এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্ক শীতল না থাকায় ভারত এক বছরের জন্য সিরিজ পিছিয়ে দেয়। পুরুষ ও নারী দলের সফরই পিছিয়ে যায়। তাই এবারের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য এবারের সিরিজ অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এজন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই চলছে চেষ্টা। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আশা ‘তিক্ততা’ ভুলে ভারত বাংলাদেশে এসে খেলবে। মঙ্গলবার মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে গণমাধ্যমে আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের একটি মর্যাদার জায়গা। ক্রিকেট যেহেতু আমাদের বিশ্ব ক্রিকেটে অত্যন্ত সুদৃঢ় একটি অবস্থান আছে, সে ক্ষেত্রে বিগত সময়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে যে একটি টানাপোড়েন হয়েছে, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি…ইতিমধ্যে আমি নিজেই আমাদের যে ভারতের দূতাবাসে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তারা সবাই অপেক্ষা করছে যে সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশে আসবে।’ ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক টানাপোড়েন শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকার সেই সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর থেকে দুই বোর্ডের সম্পর্কে আরও দূরত্ব বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপও খেলতে যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের কথাও শুনেনি। সব মিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ছিল বিসিবি। আমিনুল আরও বলেন পেছনের কথা ভুলে সামনে এগোতে হবে, ‘বিগত সময়ের ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে একটা টানাপোড়েন হয়েছিল, আমি মনে করি সেটাকে কাটিয়ে উঠে আমরা সুন্দরভাবে পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যে ক্রীড়া কূটনীতি, আমাদের যে যোগাযোগ, চলাচল—সবকিছুই খুব স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।’ বিসিবির বছরের শুরুতে দেয়া সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে আসবে। তিন ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তিন টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর।
ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ঢাকায়। টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে। বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের প্রধান মিঠুন মানহাসের সম্পর্ক বেশ দারুণ। তবে বাংলাদেশে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিসিসিআই একা নিতে পারবে না। সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদেরও। ভারতের একটি সফর যে কোনো দেশের ক্রিকেট অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বলেন, বোর্ডের এক বছরের সিরিজে যতটা না আয়, ভারতের এক সিরিজে তার দ্বিগুন আয় করা যায়। ভারতের বিশাল মার্কেটের সঙ্গে সিরিজের স্পন্সর, টিকিট, গ্রাউন্ডস রাইট এবং অন্যান্য অনেক কিছু বিক্রি করে প্রচুর আয় করতে পারে আয়োজকরা। এজন্য এই বছরের দুইটি সিরিজ (পুরুষ ও নারী) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আগামী বছরের এশিয়া কাপে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী বিসিবি, কারণ টুর্নামেন্টটির স্বত্ব বাংলাদেশের।
_1.png)
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। একই কাজ করে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজেদের জায়গা থেকে তারা প্রত্যেকেই ভারতকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফর করার সূচি রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। গত বছর এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্ক শীতল না থাকায় ভারত এক বছরের জন্য সিরিজ পিছিয়ে দেয়। পুরুষ ও নারী দলের সফরই পিছিয়ে যায়। তাই এবারের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য এবারের সিরিজ অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এজন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই চলছে চেষ্টা। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আশা ‘তিক্ততা’ ভুলে ভারত বাংলাদেশে এসে খেলবে। মঙ্গলবার মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে গণমাধ্যমে আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের একটি মর্যাদার জায়গা। ক্রিকেট যেহেতু আমাদের বিশ্ব ক্রিকেটে অত্যন্ত সুদৃঢ় একটি অবস্থান আছে, সে ক্ষেত্রে বিগত সময়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে যে একটি টানাপোড়েন হয়েছে, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি…ইতিমধ্যে আমি নিজেই আমাদের যে ভারতের দূতাবাসে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তারা সবাই অপেক্ষা করছে যে সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশে আসবে।’ ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক টানাপোড়েন শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকার সেই সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর থেকে দুই বোর্ডের সম্পর্কে আরও দূরত্ব বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপও খেলতে যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের কথাও শুনেনি। সব মিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ছিল বিসিবি। আমিনুল আরও বলেন পেছনের কথা ভুলে সামনে এগোতে হবে, ‘বিগত সময়ের ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে একটা টানাপোড়েন হয়েছিল, আমি মনে করি সেটাকে কাটিয়ে উঠে আমরা সুন্দরভাবে পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যে ক্রীড়া কূটনীতি, আমাদের যে যোগাযোগ, চলাচল—সবকিছুই খুব স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।’ বিসিবির বছরের শুরুতে দেয়া সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে আসবে। তিন ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তিন টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর।
ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ঢাকায়। টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে। বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের প্রধান মিঠুন মানহাসের সম্পর্ক বেশ দারুণ। তবে বাংলাদেশে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিসিসিআই একা নিতে পারবে না। সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদেরও। ভারতের একটি সফর যে কোনো দেশের ক্রিকেট অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বলেন, বোর্ডের এক বছরের সিরিজে যতটা না আয়, ভারতের এক সিরিজে তার দ্বিগুন আয় করা যায়। ভারতের বিশাল মার্কেটের সঙ্গে সিরিজের স্পন্সর, টিকিট, গ্রাউন্ডস রাইট এবং অন্যান্য অনেক কিছু বিক্রি করে প্রচুর আয় করতে পারে আয়োজকরা। এজন্য এই বছরের দুইটি সিরিজ (পুরুষ ও নারী) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আগামী বছরের এশিয়া কাপে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী বিসিবি, কারণ টুর্নামেন্টটির স্বত্ব বাংলাদেশের।
_1.png)
আপনার মতামত লিখুন